স্ট্রোক থেকে বাঁচাতে আবিষ্কার হল নতুন অ্যাপ

stroke

বর্সতমান সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম স্ট্রোক । মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার ফলে যে অব্যবস্থা দ্রুত জন্ম নেয় তাকে বলা হয় স্ট্রোক। স্ট্রোকের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণও রয়েছে।

স্ট্রোক হয়েছে কিনা সেটা বোঝার কিছু উপায় :

  • শারীরিক পরিমাপ: ব্লাড প্রেসার মাপা, রক্তে কোলস্টেরল মাপা, ডায়াবেটিস মাপা, আমায়িনো এসিড মাপা
  • আল্ট্রাসাউন্ড : ঘাড়ের আর্টারির ছবি নিয়ে দেখা যে কথাও রক্তনালী সরু কিংবা বন্ধ হয়ে গেছে কিনা
  • আর্টরীয়গ্রাফি (Arteriography) : রক্তনালীতে এক ধরনের রং প্রবেশ করিয়ে x-ray করানো, এতে রক্ত চলাচলের একটা ছবি পাওয়া যায়
  • CT scan (Computerized Tomography scan) : করে মস্তিস্কের 3D স্ক্যান করা যায়
  • MRI (Magnetic Resonance Imaging) : চুম্বকক্ষেত্র তৈরী করে দেখার চেষ্টা করা হয় যে মস্তিষ্ককলার কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা
  • ইকো কার্ডইওগ্রাফি: Echocardiography তে আল্ট্রা সাউন্ড ব্যবহার করে হৃদপিন্ডের একটা ছবি তুলে দেখা হয় কোনো জমাট রক্ত, বুদ বুদ কিংবা অন্যকিছু (ইংরেজিembolus) রক্ত চলা চল বন্ধ করছে কিনা) 

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস আমরা আগে থেকে পেলেও শারীরিক দুর্যোগের আভাস কি সহসাই মেলে? তবে এবার কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন। কারণ এবার স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকলে আগেই জানিয়ে দেবে অ্যাপ। স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অব বেঙ্গল নামে একটি প্রতিষ্ঠান এমন দাবি করেছে।

জানা যায়, ‘রিস্কোমিটার’ নামে একটি অ্যাপ বাজারে আসছে।স্ট্রোক রিসকোমিটার হ’ল পরবর্তী পাঁচ বা দশ বছরে আপনার স্ট্রোকের স্বতন্ত্র ঝুঁকির মূল্যায়ন করার জন্য এবং ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য আপনি কী করতে পারেন তার জন্য এক অনন্য এবং সহজেই ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম।
অ্যাপ্লিকেশনটি আপনাকে হার্ট অ্যাটাক, ডিমেনশিয়া এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকির একটি পূূর্বাভাসও দিতে পারে।  যা মানুষকে স্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে বলে দাবি করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপ ব্যবহারে হঠাৎ স্ট্রোকের মতো ঘটনা অনেকটাই আটকানো সম্ভব বলে মনে করছে স্ট্রোক ফাউন্ডেশন।

সংস্থাটি জানায়, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি অ্যাপটি ইংরেজি ও বাংলাসহ ১২টি ভাষায় ব্যবহার করা যাবে। ফলে সব ভাষাভাষি মানুষ এ অ্যাপের সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এটি ডাউনলোড করা যাবে গুগল প্লে-স্টোর থেকে।

স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অব বেঙ্গলের এক কর্মকর্তা বলেন, কারো আগাম স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনুধাবন করতে অ্যাপ ব্যবহারকারীকে প্রথমে একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হবে। ব্যবহারকারীর উত্তরের মাধ্যমেই অ্যাপটি স্ট্রোকের সম্ভাবনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারবে।

সংস্থাটি তাদের ‘রিস্কোমিটার’ নামের অ্যাপটিকে বড় সাফল্য হিসেবেই মনে করছে। তারা মনে করেন, নিজেকে ভালোবাসলে, শরীর সম্পর্কে সচেতন হলে, অ্যাপটি স্মার্টফোনে ডাউনলোড করতে কেউ দেরি করবেন না।

নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত জীবনব্যবস্থা বজায় রাখলে স্ট্রোকের ঝুকি অনেক খানি কমানো সম্ভব। তার সাথে প্রয়োজন নিজের  স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা। 

About Eileithyia Gabriel 13 Articles
আমি heilcat.com এর এডমিন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, আন্তর্জাতিক, ফ্যাশন, নারী যে কোন বিষয়ে আমি লিখে থাকি। মেসেঞ্জারে আমাকে নক দিতে পারেন এখানে

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*