মেদ- ভুঁড়ি নিয়ে চিন্তিত? দেখে নিন মাত্র ৫ দিনেই ভুঁড়ি কমানোর উপায়!

weight loss

নানা কারনে মেদ ভুঁড়ি বাড়তে পারে যেমন অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া দাওয়া, হাঁটাচলা কম করা, ব্যায়াম না করা ইত্যাদি।  এতে চলাফেরায় যেমন অসুবিধা হয় তেমনি নষ্ট হয় সৌন্দর্যও। শরীরে বাড়তি মেদ ভুঁড়ি থাকলে ভালো পোশাক পড়লেও ভালো লাগেনা তাই অনেকে মেদ ভুঁড়ি নিয়ে অস্বস্তিতেও ভুগতে থাকেন।

ভুঁড়ি দূর করার জন্য ভেষজ উপায়ই সবচেয়ে সহজ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। তেমনই একটি উপায় হলো আদা ও লেবু দিয়ে তৈরি এই বিশেষ পানীয়। আদা যেমন সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে তেমনই ওজন কমাতেও সাহায্য করে। লেবুর গুণ সম্পর্কে তো সবারই জানা। আর লেবু আর আদা একসঙ্গে খেতে পারলে তো কথাই নেই। পেটের মেদ যেমন ঝরে তেমনই নানা সংক্রমণ, হজমের সমস্যাতেও সাহায্য করে।

চলুন জেনে নেয়া যাক মেদ- ভুঁড়ি কমানোর সহজ উপায়গুলো-

১. প্রতিদিনের সকালটা শুরু হোক লেবুর সরবত দিয়ে। এই পদ্ধতি পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী ১টি উপায়। ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু চিপে সরবত করে সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে নিন। ইচ্ছে হলে একটু মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু চিনি মিশাবেন না। প্রতিদিন সকালে পানীয়টি পান করুন। এই পানীয় আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

২. সাদা ভাত কম খান অথবা কিছুদিনের জন্য ছেড়ে দিন সাদা চালের ভাত খাওয়া। সাদা চালের ভাতের বদলে বিভিন্ন গম জাতীয় শস্য যুক্ত করে নিন আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়। তাছাড়া লাল চালের ভাত, গমের রুটি, ওটস, অন্যান্য শস্য যুক্ত করে নিতে পারেন।

৩. চিনি জাতীয় খাবার থেকে দূরেই থাকুন অর্থাৎ চিনিকে না বলুন। এছাড়া মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন মিষ্টি, চকলেট, আইসক্রিম, ফিরনী, সেমাই ইত্যাদি থেকে কিছুদিনের জন্য বিদায় নিয়ে নিন।

৪. উচ্চ তেলযুক্ত খাবার এবং কোল্ড ড্রিঙ্কসগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমিয়ে রাখে। যেমন আমাদের পেট কিংবা উরু। সুতরাং বুঝেই ফেলেছেন যে এই খাবারগুলো তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিতে হবে।

৫. পেটের মেদ কাটিয়ে উঠতে চাইলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। তাহলে শরীরের বিপাকের হার বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলোকে দূর করে দিবে। তাই পানিকে প্রাকৃতিক ক্লিঞ্জার বলা হয়।

৬. কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকাল বেলা চুষে খান। তারপরে লেবুর সরবত পান করুন। এই চিকিৎসাটি আপনার ওজন কমানোর জন্য সাহায্য করবে এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ সহজ করবে।

৭. যতদিন পেটের মেদ না কমবে ততদিন নন-ভেজ খাদ্য অর্থাৎ মাংস, মাছ, ডিম, দুধ বাদ দিতে হবে। তবে মাছের টুকরোর চামড়া ফেলে খাওয়া যেতেই পারে।

৮. প্রতিদিন সকাল এবং বিকাল এই দুই সময়ে ফল ও সবজি খান। তবে এক্ষেত্রে পানি জাতীয় ফল বাছাই করুন। এই অভ্যাসটি আপনার দেহে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজলবণ এর ঘাটতি পূরণ করবে।

৯. ঝাল খাবার খান। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবেন না। ঝাল খাবেন কিন্তু ঝালগুলো আসবে দারচিনি, আদা, গোলমরিচ এবং কাঁচামরিচ থেকে। এগুলো রান্নায় ব্যবহার করুন। এই মশলা স্বাস্থ্যকর। এগুলো শরীরের ইনসুলিন সরবরাহ বাড়ায় এবং রক্তের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে। তাই এগুলো ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী।

ভালো ফলাফল পেতে আপনাকে অবশ্যই নিয়মগুলো রেগুলার মেনে চলতে হবে। সবকিছু করার পরেও আপনাকে যেটা করতে হবে তাহলো ব্যায়াম। মেদ কমাতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। কারন শুধুমাত্র ডায়েট ঠিক রেখে নিয়মিত পরিশ্রম না করে ভুঁড়ি কমানো সম্ভব নয়।  তাই শরীর ঠিক রাখতে ও মেদ- ভুঁড়ি কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

About Eileithyia Gabriel 13 Articles
আমি heilcat.com এর এডমিন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, আন্তর্জাতিক, ফ্যাশন, নারী যে কোন বিষয়ে আমি লিখে থাকি। মেসেঞ্জারে আমাকে নক দিতে পারেন এখানে

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*